ধনিয়া পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা
ধনিয়া পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে আমরা এই আর্টিকেলে বিস্তারিত জানতে
পারবো। তাই এদিক সেদিক না গিয়ে আমাদের সাথে থাকার জন্য অনুরোধ করা হল। তাই
আমাদের আর্টিকেলটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ার অনুরোধ রইলো।
ধনিয়া পাতা খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কেও আমরা জানতে পারবো। যারা এ ব্যাপারে জানতে আগ্রহী। তাদেরকে এ আর্টিকেলটি পড়ার অনুরোধ রইল। অবশ্যই আপনারা এটি পড়ে অনেক উপকৃত হবেন। তাই পড়ার অনুরোধ রইলো।
পোষ্ট সূচিপত্র .
ধনিয়া পাতার যত উপকারিতা
১. খিচুনি বা মৃগীরোগ রোধ করে: সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, অধিকাংশ মানুষেরই খিচুনি বা মৃগীরোগ রয়েছে। এই রোগ অনেক যন্ত্রণাদায়ক এবং কষ্টকর। তাই ধনিয়া পাতা নিয়মিত খেলে এই রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যেতে পারে। কেননা এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম, যা মানব দেহের নিউরোনাল এবং কার্ডিয়াক সক্রিয় করতে বেশ ভূমিকা রাখে।
২. শরীরে পদাহ জনিত রোগ দূর করে: এক গবেষণায় পাওয়া যায় ধনেপাতাতে
রয়েছে প্রচুর পরিমাণে লিনালুল লিকুইড, যা স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত রাখে ও শরীরের
যেকোনো প্রদাহ বা ব্যথা নিরাময় করে। চিকিৎসাবিদরা দাবি করেছেন, এই পাতা নিয়মিত
সেবন করলে যে কোন বিষন্নতা ও মৃগী রোগের মতো রোগ দূর করতে দারুণ ভূমিকা রাখে।
৩. হজম শক্তি উন্নত করে: ধনেপাতাতে এমন একটি লিকুইড রয়েছে যার নাম
এসেনশিয়াল লিপিড, যা হজম শক্তি উন্নত করে এবং বদহজম থেকে রক্ষা করে। আর
গ্যাসটিকের সমস্যা দ্রুত নিরাময় করে। এক কথায় বলা যেতে পারে পেটের সকল সমস্যা ও
প্রদাহ দূর করে প্রশান্তি এনে দেয়।
৪. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে: ধনে পাতাতে রয়েছে প্রাকৃতিক এন্টি
অক্সিডেন্ট। এই উপাদানটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দ্বিগুণ গুণে বৃদ্ধি করে
দেয়। এবং শরীর সুস্থ রাখতে দারুন ভূমিকা পালন করে।
৫. কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে: কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে
রাখতে ধনেপাতার জুড়ি নেই। ধনেপাতা মানব দেহের ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া যেমন (LDL)
নিয়ন্ত্রণ করে এবং (HDL) দ্বিগুন গুনে বাড়িয়ে দিতে সাহায্য করে।
৬. মন-মেজাজ ঠিক রাখে: ধনেপাতা মেজাজ খিট মিটে লোকদের মেজাজ ঠিক রাখতে দারুন ভাবে কাজ করে থাকে। তবে মাঝে মাঝে এর ব্যতিক্রমও হতে পারে। আমরা মেজাজ খিটমিটে হলে ফার্মেসি থেকে ঔষধ কিনে খায়। সেটি মোটেও শরীরের পক্ষে ভালো নয়। তাই বিকল্প ঔষুধ হিসেবে ধনেপাতা প্রতিদিন প্লেটে রাখা যেতে পারে।
৭. ডায়াবেটিসের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে: ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ রাখতে ধনেপাতা ভালো কাজ করে থাকে। তাই যাদের উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে তারা এই উদ্ভিকটি নিয়মিত খাদ্য তালিকায় রাখতে।
৮. ক্যান্সার রোধ করে: ধনেপাতাতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি
অক্সিডেন্ট যা, ক্যান্সারের মতো কঠিন রোগের ঝুঁকি কমায়। এবং ফ্রি রেডিক্যাল থেকে
শরীরের কোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে। এজন্য মাঝে মাঝে ধনেপাতা খাওয়া খুবই
জরুরী। যা ক্যান্সার রোধকারী উপাদান।
৯. চোখের দৃষ্টি শক্তি বৃদ্ধি করে: ধনেপাতাতে রয়েছে প্রাকৃতিক
অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এটিও চোখের যাবতীয় ক্ষতি এবং দৃষ্টি শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়ক।
যাদের চোখে হালকা সমস্যা রয়েছে তারা এই পাতাটি নিয়মিত কিছুদিন খেতে পারেন।
ধনিয়া পাতার অপকারিতা
এলার্জির সমস্যা হতে পারে: ধনিয়া পাতা খাওয়ার কারণে অনেক সময় এলার্জির
সমস্যা দেখা দিতে পারে। এই এলার্জি থেকে ত্বকে চুলকানির সৃষ্টি হতে পারে। তাই
যাদের আগে থেকেই এলার্জির সমস্যা তারা এই পাতা সাবধানতার সাথে খাওয়াই উত্তম
হবে।
নিঃশ্বাসের সমস্যা হতে পারে: যাদের পূর্বে থেকে শ্বাসকষ্টের সমস্যা রয়েছে
তারা এই পাতা থেকে সাবধান থাকবেন। কেননা ধনে পাতা নিঃশ্বাস নিতে সমস্যা সৃষ্টি
করতে পারে। এই পাতা এতই ভয়ঙ্কর যে, অনেক সময় অল্প অল্প নিঃশ্বাস নিতেও
সমস্যা হয়। তাই এই পাতা বুঝে শুনে খাওয়াই উত্তম হবে।
রক্তচাপ হ্রাস: উচ্চ রক্তচাপ হলে ধনিয়া পাতা তা নিয়ন্ত্রণ রাখতে
সক্ষম। তাই যাদের নিম্ন রক্তচাপ তারা এই পাতা খাওয়া থেকে বিরত থাকবেন। অনেক
সময় এটি বড় ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হতে পারে।
ডায়রিয়া হতে পারে: ধনিয়া পাতা পরিমাণের চেয়ে বেশি খেলে অনেক সময়
ডায়রিয়ার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। যার ফলে শরীরের রেহাইড্রেশন বৃদ্ধি পেতে
পারে। তাই সতর্কতার সাথে এই পাতা সেবন করা উচিত।
অতিরিক্ত সেবনে সমস্যা হতে পারে: অতিরিক্ত ধনিয়া পাতা সেবন করলে পেটের
নানান জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে যেমন, বমি বমি ভাব, ডায়রিয়া, পেট ব্যথা, পেট
ফাঁপা ইত্যাদি সহ আরো জটিল ও কঠিন রোগ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ধনিয়া পাতা খাওয়ার নিয়ম
জুস করে খেতে পারেন: ধনিয়া পাতা বিলিন্ডারে মিক্সার করে এর জুস বানিয়ে
খাওয়া যেতে পারে। এটি খুব স্বাস্থ্যকর জুস। এই জুস নিয়মিত পান করলে কিডনির
যাবতীয় সমস্যা নিমিষে দূর হয়ে যায়। এবং পরিমাণ মতো পান করলে পেটের সমস্যা দূর
হয়।
তরকারির সাথে খেতে পারেন: তরকারি চুলা থেকে নামানোর কিছুক্ষণ পড়বে
ধনেপাতা কুচকুচি করে কেটে তরকারিতে দিলে দেখুন টেস্ট হয়। মাছের তরকারিতে হালকা
ঝোল রেখে ধনিয়ার পাতা দিয়ে খেতে অনেক মজা লাগে।
খালি পেটে ধনিয়া পাতা খেলে কি হয়?
খালি পেটে ধনিয়া পাতা খেলে নানান উপকার পাওয়া যায়। নিম্নে এই সমস্ত উপকারের
কথা বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করা হলো-
বদহজম দূর করে: ধনিয়া পাতাতে প্রাকৃতিক সাইট্রিক অ্যাসিড রয়েছে যা,
বদহজম, গ্যাস্ট্রিক, আলচার, পেট ফাঁপা ইত্যাদি রোগ ভালো করতে দ্রুত কাজ করে থাকে।
তাই খালি পেটে ধনিয়া পাতা খেলে উপরোক্ত সকল উপকার পাওয়া যায়।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে: ধনিয়া পাতাতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে
এন্ট্রি অক্সিডেন্ট যা, মানব দেহের জন্য এন্টিবায়োটিক হিসেবে কাজ করে। এইজন্য
খালি পেটে ধনিয়া পাতা খেলে দ্বিগুণ উপকার পাওয়া যায়।
ধনিয়া পাতার রেসিপি
মাছসহ অন্যান্য তরকারির রেসিপি: মাছ সহ অন্যান্য তরকারির রেসিপি রান্না
হয়ে যাওয়ার আগ মুহূর্ত ধনিয়া পাতা কুচি কুচি করে তরকারির উপর দিয়ে দিলে সে
তরকারির টেস্ট অন্যরকম হয়। এবং খেতেও অনেক মজা লাগে।
মাছের ভর্তার রেসিপি: যে কোন মাছ ও ধনিয়ার পাতা, পিয়াজ, মরিচ ইত্যাদি
মসলা প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়ে তা করাইতে ভেজে ভর্তা বানিয়ে খেলে দারুন মজা
লাগে।
ধনিয়ার পাতার বড়া: ধনিয়ার পাতা ময়দা ও বেসন দিয়ে তেলে ভেজে খেতে
দারুন মজা লাগে। এইভাবে তেলেভাজা বড়া বেশিরভাগ শীতকালীন সময় দেখা যায়। এটা
খেতেও অনেক সুস্বাদু। এর কথা শুনলে জিহ্বায় জল চলে আসে।
লেখকের মন্তব্য
পরিশেষে বলা যেতে পারে, ধনিয়া পাতার উপকারিতা সম্পর্কে আমরা বিস্তারিত আলোচনা
করার চেষ্টা করেছি। ধনিয়ার পাতা খেলে মানবদেহের জন্য অনেক উপকার সাধিত হয়। এবং
নিয়মের চেয়ে অতিরিক্ত ধনিয়া পাতা সেবন করলে কিছু সমস্যা হতে পারে। এ সকল বিষয়ে
আমরা এই আর্টিকেলে আলোচনা করার চেষ্টা করেছে।
ফিউচার লাইফ আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url